বিধান রিবেরু

bidhanrebeiro.wordpress.com

চিনপরিচয়

বিধান রিবেরু00

বিধান রিবেরু বাংলাদেশের একজন লেখক। পুরো নাম বিধান চার্লস কলিন্স রিবেরু। তিনি ঢাকায় ১৯৮১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। মূলত চলচ্চিত্র বিষয়ক প্রবন্ধ লিখলেও রাজনীতি ও সাহিত্য বিষয়েও তাঁর প্রবন্ধ রয়েছে। সাহিত্য জগতে তিনি প্রবেশ করেন ২০০৩ সালে একটি কবিতার বই দিয়ে। অবশ্য এর আগে ১৯৯৯ সালে নটরডেম কলেজে পড়াকালে তাঁর কবিতার একটি ফোল্ডার বের হয়। বিধানের দ্বিতীয় গ্রন্থটিও কবিতার। পরে তিনি প্রবন্ধ লিখতে শুরু করেন। বাংলা প্রবন্ধের ক্ষেত্রে তিনিই সম্ভবত প্রথম চলচ্চিত্র আলোচনার সঙ্গে মনোবিশ্লেষণ ও দর্শনের মিশেল ঘটিয়েছেন। লেখালেখির পাশাপাশি বেশ কয়েকটি প্রামাণ্যচিত্রও নির্মাণ করেছেন তিনি।

পরিবার

বিধান রিবেরু পিতামাতার একমাত্র সন্তান। তাঁর বাবা বিজয় ভিনসেন্ট রিবেরু ও মা স্টেলা গোমেজ। তাঁরা দুজনই শিক্ষকতা করেছেন। বিজয় ভিনসেন্ট রিবেরু একজন মুক্তিযোদ্ধা। আর স্টেলা গোমেজ ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত, প্রায় চল্লিশ বছর ভিকারুন্নেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রভাষকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ঢাকার হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে জন্ম নেয়া বিধান রিবেরু জীবনের প্রথম কয়েক বছর ফার্মগেটের পূর্ব রাজাবাজারে কাটালেও, পরে ১৯৮৮ সাল থেকে তেজগাঁওয়ে নিজেদের বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। ২০১১ সালে তিনি বিয়ে করেন আয়েশা আক্তারকে। আয়েশা আক্তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি পারিবারিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।  ২০১৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিধান ও আয়েশার পুত্রসন্তান হয়, নাম অদ্বিতীয়।

শিক্ষাজীবন

ঢাকার রাজাবাজারের একটি নার্সারি স্কুলে কয়েক মাস কাটিয়ে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য বিধান রিবেরু ভর্তি হন বটমলী হোমস স্কুলে। মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে। সেখান থেকে ১৯৯৮ সালে এসএসসি পাশ করে তিনি ভর্তি হন নটরডেম কলেজে। ২০০০ সালে এইচএসসি পাশ করে তিনি ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি) থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞানে চার বছরের স্নাতক শেষ করেন। এরপর বিধান রিবেরু চলচ্চিত্র বিষয়ে স্নাতকোত্তর করার জন্য স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এখানে অধ্যায়নকালেই তিনি নরওয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তখন নোরাড বৃত্তি লাভ করেন, ফলে স্ট্যামফোর্ডের পড়া মুলতবি রাখেন এবং অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্ববধানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুই বছরের স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন ২০০৯ সালে, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ে। পরে অবশ্য চলচ্চিত্র বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

পেশাজীবন

বাধা ধরা চাকরি বিধান রিবেরু কখনোই করেননি। তিনি আরটিভি, বৈশাখি টেলিভিশন, এটিএন নিউজ ও এনটিভি অনলাইনে বিভিন্ন মেয়াদে চুক্তিভিত্তিক কাজ করেছেন। এসব জায়গায় তিনি পর্যায়ক্রমে নিউজরুম এডিটর, সিনিয়র নিউজরুম এডিটর, ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক ইনচার্জ, জয়েন্ট নিউজ এডিটর ও ফিচার এডিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্রাবস্থায় তিনি দৈনিক জনকণ্ঠে কিছুদিন প্রদায়ক হিসেবে ছিলেন। পরে ২০০৫ সাল থেকে শুরু হয় তাঁর কর্মজীবন।

প্রকাশিত গ্রন্থ

১. প্রথম (কাব্যগ্রন্থ), প্রকাশক: ভোরের শিশির (২০০৩)

২. বজ্রকমল সংযোগে (কাব্যগ্রন্থ), প্রকাশক: পাঠসূত্র (২০০৭)

৩. চলচ্চিত্র পাঠ সহায়িকা (প্রবন্ধগ্রন্থ), প্রকাশক: রোদেলা (২০১১)

৪. দ্য ফ্লাইং মেশিন (অনুবাদ গল্পগ্রন্থ), প্রকাশক: জাগৃতি (২০১৩)

৫. ম্যান রাইডিং ওয়েস্ট (অনুবাদ গল্পগ্রন্থ), প্রকাশক: জাগৃতি (২০১৩)

৬. চলচ্চিত্র বিচার (প্রবন্ধগ্রন্থ), প্রকাশক: কথা (২০১৪)

৭. শাহবাগ: রাজনীতি ধর্ম চেতনা, (প্রবন্ধগ্রন্থ) প্রকাশক: প্রকৃতি (২০১৪)

৮. বিবিধ অভাব: লিওনার্দো লালন লাকাঁ (প্রবন্ধগ্রন্থ ), প্রকাশক: ঐতিহ্য (২০১৫)

৯. বলিউড বাহাস (প্রবন্ধগ্রন্থ), প্রকাশক: চৈতন্য (২০১৫)

১০. উসমান সেমবেনের চলচ্চিত্র হালা (অনুবাদ ও নিবন্ধ) প্রকাশক: কথা প্রকাশ (২০১৭)

১১. অনুভূতিতে আঘাতের রাজনীতি ও অন্যান্য (কলাম ও প্রবন্ধ), প্রকাশক : ঐতিহ্য (২০১৭)

পত্রিকা সম্পাদনা

১. বাংলা (ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত দুটি সংখ্যার সম্পাদনা করেছেন বিধান রিবেরু)

২. অনলাইন সিনেমা বিষয়ক পত্রিকা oncinemabd.com

৩. ভোরের শিশির (সাহিত্য বিষয়ক এই পত্রিকার সহ সম্পাদক ছিলেন তিনি)

প্রামাণ্যচিত্র

১. উন্মাদ (উন্মাদ পত্রিকাকে নিয়ে নির্মিত, নির্মাণকাল: ২০০৮)

২. ফিলাটেলি ইন বাংলাদেশ (বাংলাদেশে ডাকটিকিট চর্চা নিয়ে নির্মিত, নির্মাণকাল: ২০১৪)

টেলিভিশন অনুষ্ঠান

টেলিভিশন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ে পরিকল্পনা, চিত্রনাট্য রচনা ও উপস্থাপনা করেছেন বিধান রিবেরু।

Advertisements
%d bloggers like this: