বিধান রিবেরু

bidhanrebeiro.wordpress.com

শিল্পের স্বাধীনতাই সবকিছু : স্টিভেন স্পিলবার্গ

Steven_Spielberg-865x505

‘জস’, ‘ই.টি. দ্য এক্সট্রা-টেরেস্ট্রিয়াল’, ‘ইন্ডিয়ানা জোনস’…, বলে শেষ করা যাবে না, এগুলো হলিউডের ব্যবসা সফল ছবি, এ ছাড়া তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ‘এম্পায়ার অব দ্য সান’, ‘শিন্ডলার্স লিস্ট’, ‘সেভিং প্রাইভেট রায়ান’-এর মতো আধুনিক ধ্রুপদী, হৃদয় ছোঁয়া চলচ্চিত্র। তাঁকে বলা হয় নতুন হলিউড যুগের পুরোধা ব্যক্তিত্ব। একই সঙ্গে তিনি দখল করে আছেন গোটা চলচ্চিত্র ইতিহাসের জনপ্রিয় নির্মাতার আসনটি। এককথায় তিনি বর্তমান বিশ্বের একজন অন্যতম সফল পরিচালক,  প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকার। তিনি স্টিভেন স্পিলবার্গ।

১৯৪৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর স্পিলবার্গ জন্মগ্রহণ করেন যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের সিনসিনাতিতে। কৈশোর থেকেই তিনি সম্পৃক্ত চলচ্চিত্রের সঙ্গে। ছাত্রাবস্থায় স্পিলবার্গ কাজ করার সুযোগ পান ইউনিভার্সাল স্টুডিওতে। সেখানে সম্পাদনা বিভাগে যুক্ত হলেও পরে তিনি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। তাঁর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দ্য সুগারল্যান্ড এক্সপ্রেস’ (১৯৭৪)। ‘শিন্ডলার্স লিস্ট’ (১৯৯৩) ছবিটির জন্য একাডেমি অ্যাওয়ার্ড বা অস্কারে স্পিলবার্গ ‘শ্রেষ্ঠ পরিচালক’ ও ‘শ্রেষ্ঠ ছবি’র পুরস্কার লাভ করে। ‘সেভিং প্রাইভেট রায়ান’ (১৯৯৮) ছবির জন্যও তিনি অস্কারে ‘শ্রেষ্ঠ পরিচালক’ হন।

উল্লিখিত ছবি ছাড়াও স্পিলবার্গ নির্মাণ করেছেন আরো অনেক চলচ্চিত্র, যা শুধু ব্যবসায়িক সাফল্য বা জনপ্রিয়তা পেয়েছে তাই নয়, কুঁড়িয়েছে সমালোচকদের প্রশংসাও। তেমন কয়েকটি উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র যেমন ‘দ্য কালার পার্পল’ (১৯৮৫), ‘জুরাসিক পার্ক’ (১৯৯৩), ‘এআই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ (২০০১), ‘মিউনিখ’ (২০০৫), ‘ওয়ার হর্স’ (২০১১), ‘লিংকন’ (২০১২), ‘ব্রিজ অব স্পাইস’ (২০১৫) প্রভৃতি।

গত বছর ২০১৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর স্পিলবার্গ পূরণ করেন সত্তর বছর। এ উপলক্ষে রিডার্স ডাইজেস্ট এপ্রিল ২০১৭ সালের সংখ্যায় প্রকাশ করে স্পিলবার্গের একটি সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকার। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ডাইটের ওসওয়াল্ড। আর সেটি অনুবাদ করেছেন বিধান রিবেরু।

আপনার সর্বশেষ ছবির (বিগ ফ্রেন্ডলি জায়ান্ট) মূল চরিত্র দৈত্যদের ভয় পায়। আপনি যখন ছোট ছিলেন তখন আপনি কিসে ভয় পেতেন?

স্টিভেন স্পিলবার্গ : আমি নিজেই ছিলাম নিজের দৈত্য। আমার কল্পনাশক্তি ছিল অস্বাভাবিক রকমের, কাজেই আমি সবকিছুকেই ভয় পেতাম। একটা চেয়ারকে হয় তো ভেবে বসতাম বড় মাকড়সা। আমার মনে আছে, তখন আমার বয়স পাঁচ হবে, আমি আকাশের দিকে তাকিয়েছিলাম, একটা মেঘ দেখছিলাম, ঠিক যেন অপূর্ব এক রাজহাঁস, পরক্ষণেই আবার সেটি হয়ে যায় ডাইনোসর। আমি ভয় পেয়ে চিৎকার করতে করতে দৌঁড়ে ঘরে চলে এসেছিলাম।

এমন ভীতি নিয়ে আপনার বাবা-মায়ের প্রতিক্রিয়া কী রকম ছিল?

স্টিভেন স্পিলবার্গ : আমার মা ও বাবার জন্য আমার কল্পনাটিই ছিল সবচেয়ে বড় সমস্যা। তাঁরা বিষয়টিকে এতটাই গুরুত্ব দিয়েছিলেন যে আমাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। আমি লাগাতার নানা জিনিস দেখতাম, আমার মাথার ভেতরে ছাড়া যেগুলোর আসলে কোনো অস্তিত্বই নেই। আমার মা ও বাবা দুজনই ভেবেছিলেন আমার বড় ধরনের মানসিক সমস্যা রয়েছে। যাহোক, আমি হয় তো নিজের পেশা বেছে নিতে পারতাম, কিন্তু তাঁরা আমার নির্মাতা হওয়ার পেছনে বিশাল অবদান রেখেছেন।

নিজের ভেতরের শিশুটাকে রক্ষা করা কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ আপনার কাছে?

স্টিভেন স্পিলবার্গ : শিশুদের যে জিনিসটি আমার কাছে চমৎকার লাগে, তারা তাদের মতো থাকতে পছন্দ করে। শিশুরা কোনটা সঠিক, কোনটা ভুল সেটা জানে না— সেটা তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণও নয়। শৈশবকাল হলো পূর্ণ স্বাধীনতার কাল, এই সময়টি শেষ হয়ে যায় যখন যুক্তি আপনাকে গ্রাস করে এবং যখন আপনাকে শেখানো হয় নানা রীতিনীতি। আমার নিজের শৈশবকাল খুব মনে আছে।

গত ডিসেম্বরে আপনার ৭০ হলো। আপনার দীর্ঘ কর্মজীবনে সবচেয়ে বড় অর্জন কোনটি?

স্টিভেন স্পিলবার্গ : নিজের প্রকল্প নিজে বাছাই করার অধিকার। এটাই আমার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য ছিল, সবসময়। আমি আমার গল্প বলব, তাতে অন্য কেউ নাক গলাবে না। আর এ কারণেই আমি আমার নিজের একটি স্টুডিও প্রতিষ্ঠা করি। শিল্পের স্বাধীনতাই আমার কাছে সবকিছু।

কোন ছবিটি তৈরি করার সময় আপনি তৃপ্তি বোধ করেছেন?

স্টিভেন স্পিলবার্গ : ইটি দ্য এক্সট্রা টেরেস্ট্রিয়াল, এর কারণ ওই সময়েই আমি প্রথম অনুভব করতে পারি আমি পিতা হতে চাই। তিন বছর পর সেই ইচ্ছে পূরণ হয়, আমার প্রথম পুত্রসন্তান জন্ম নেয়।

আপনি কি হোম মুভি বানান?

স্টিভেন স্পিলবার্গ : হ্যাঁ, আমার সঙ্গে সবসময় একটি ভিডিও ক্যামেরা থাকে। বড়দিনে আমাদের একটা রীতি দাঁড়িয়ে গেছে, প্রতিবারই আমরা একটি যৌথ ছবি বানাই, এক ঘণ্টার মতো দীর্ঘ হয় সেটি। বড়দিনের পর প্রায় সারা বছর ধরে আমি ছবি সংগ্রহ করে সেগুলো সম্পাদনা করি, সেখানে আমি আমাদের বাচ্চাদের ভিডিও জুড়ে দেই। আর ওই ছবিতে সাউন্ডট্র্যাক ও স্পেশাল এফেক্টস তো থাকেই। পরে পরিবারের সবাই মিলে আমরা ছবিটা দেখি, প্রত্যেকেই আবার সেই ছবির একটি করে ডিভিডি পায়।

(লেখাটি প্রথম প্রকাশ হয় এনটিভি অনলাইনে, ১ মে ২০১৭ তারিখে।)

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

নেভিগেশন

%d bloggers like this: